Pages

Tuesday, March 11, 2014

পোষ্টটা না পড়ে কেউ লাইক দিবেন না।

(পোষ্টটা না পড়ে কেউ লাইক দিবেন না।)
''লাইক' নয় শুধু হজরতের কথা গুলো মনোযোগ দিয়ে হৃদয়ে অনুভব করুন, প্লীজ।কত হাজার বার চিন্তা করার মত গভীর কিছু ঈমানী উক্তি এটি ?
' দাওয়াত ও তাবলীগ ' এর প্রানপ্রিয় আকাবির __মাওলানা সা'দ সাহেব ( দা বা ) খুব কষ্ট নিয়ে হৃদয় ভাঙ্গা আওয়াজে বলেনঃ-
_____________ 'সাইন্স' মানুষকে শিরকের দিকে কিভাবে নিয়ে যায় তার খেয়াল হয়তো কেউ রাখতে চায়না। কারন 'সাইন্সের' আলোতে আজ আমরা আলো দেখি,সুইচ অন করে বাতাস নেই বা এই রকম আরও শত শত সুবিধা ভোগ করি।তাই 'সাইন্সের' মাধ্যমে এত আরামের নানা উপকরণ -সুবিধা পেয়ে উম্মতি মুহাম্মদি আল্লাহ্‌র উপর হতে একীন হারিয়ে ফেলছে এই হুঁশ হয়ত তার নেই। এমনকি 'সাইন্সের' ক্ষতিকর দিকে নজর রাখতেও আমরা ভুলে বসে আছি !
তিনি একটা বাস্তব ঘটনার উদারন দিয়ে বলেন -'কিছুদিন আগে আমরা সাথীরা সফরে যাবার আগে অপেক্ষা করছিলাম।
তখন এক সাথী আমাকে এসে বলে _'হজরত নিউস পেপারে দেখলাম, এক মাস বৃষ্টি হবেনা !
হুজুর তাকে বলেন- বৃষ্টি কখন হবে সেটা আল্লাহ্‌ ভাল জানে ।
তখন সাথী বলেন -' হজরত এই পত্রিকা অনেক বিশ্বাসযোগ্য এবং সঠিক তথ্য নির্ভর খবর দেয় !
তখন সা'দ সাহেব খুব রাগের সাথে তাকে বলেন- এক মাস বৃষ্টি না হবার সম্ভবনা, এটা মাখলুকের দেওয়া খবর ;অথচ বৃষ্টি কখন হবে এটা আল্লাহ্‌ নিজেই জানেন বলে ' আল কুরআনে' বলে দিয়েছেন। তাহলে আল্লাহর উপর পুরো ভরসা ছেড়ে মাখলুকের কোন হিসাব বা কথার উপর একিন করা কত বড় জাহেলাতি হবে ভাবতে পারো !
আমি সাথীদের বলবো বৃষ্টির জন্য এখনি সালাতুল হাজত পড়ে আল্লাহ্‌র কাছে খুব দোয়া করতে ।
' আল্লাহ্‌ হু আকবার, কাবীরা ' ________
মাওলানা সা'দ সাহেব বলেন - আমি দেখলাম কিছু সাথী নামাজ পড়ে, খুব দোয়া করছে। ঠিক ৩০ মিনিট হবে, তারপর আকাশে ঘন মেঘের আবরণ দেখা গেল এবং কিছুক্ষণ পর এমন বৃষ্টি হয়েছে যে , আমাদের সঃফরে যাবার গাড়ি চলার অবস্থা থাকল না । রাস্তায় পানি জমে গেল । সকল সাথীরা এত উল্লাসের সাথে শুকর করলেন যেন, সকলের মধ্যে সেদিন ' ঈমান - একিনের' নতুন বীজ বপন হল ।
হুজুর বলেন - আজ 'সাইন্স ' উম্মতকে মাখলুকের সাথে জুড়ে দিচ্ছে ; অথচ এই উম্মতকে জীবনের সব কিছুর জন্য আল্লাহ্‌র সাথে জুড়ে দেবার জন্য নবী - রাসুল এবং কুরআন এসেছে।

হযরত আব্দুল্লাহ বিন আমর রাঃ থেকে বর্ণিত।

ﻋَﻦْ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦِ ﻋَﻤْﺮٍﻭ ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ
ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻗَﺎﻝَ ﺑَﻠِّﻐُﻮﺍ ﻋَﻨِّﻲ ﻭَﻟَﻮْ ﺁﻳَﺔً
হযরত আব্দুল্লাহ বিন আমর রাঃ থেকে বর্ণিত।
রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ আমার পক্ষ
থেকে একটি বাণী হলেও পৌঁছে দাও। {সহীহ
বুখারী, হাদীস নং-৩২৭৪, সহীহ
ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-১৪৯,
সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-১৪৭,
সুনানে দারেমী, হাদীস নং-৫৪২}

Thursday, March 6, 2014

ইসলামধর্মে হস্তমৈথুন
সম্পূর্ণ
হারাম ।
→হস্তমৈথনে ক্ষতিসমূহঃ
হস্তমৈথুনের
কারণে দুই
ধরনের
সমস্যা হয়, (১)
মানসিক সমস্যা ।
(২) শারীরিক সমস্যা ।
• পুরুষদের ক্ষেত্রেঃ
১) পুরুষ হস্তমৈথুন
করলে প্রধান
যে সব
সমস্যায়
ভুগতে পারে তার
মধ্যে একটি হল
নপুংসকতা (Impotence)

অর্থাৎ ব্যক্তি যৌন
সংগম
স্থাপন
করতে অক্ষম হয়ে যায় ।
২) আরেকটি সমস্যা হল
অকাল বীর্যপাত
(Premat
ure
Ejaculation) ।
অর্থাৎ খুব অল্প
সময়ে বীর্যপাত ঘটে ।
৩) বীর্যে শুক্রাণুর
সংখ্যা কমে যায় । তখন
বীর্যে শুক্রাণুর
সংখ্যা হয় ২০
মিলিয়নের কম (২
কোটি) ।
যার ফলে সন্তান
জন্মদানে ব্যর্থতার
দেখা দেয় । একজন পুরুষ
যখন স্ত্রী গমন
করেন
তখন তার
থেকে যে বীর্য বের
হয়
সে বীর্যে শুক্রাণুর
সংখ্যা হয়
৪২ কোটির মত ।
স্বাস্থ্যবিজ্ঞা ন
মতে কোন
পুরুষের
থেকে যদি ২০ কোটির
কম
শুক্রাণু বের
হয় তাহলে সে পুরুষ
থেকে কোন সন্তান
হয়
না ।
৪) অতিরিক্ত হস্তমৈথুন
পুরুষের
যৌনাঙ্গকে দুর্বল
করে দেয় ।
• নারীদের
ক্ষেত্রেঃ ১)
নারীরা যখন স্বমেহন
বা হস্তমৈথুন
করে তখন তার
কুমারীত্ব (Virgi
nity) হারানোর
সম্ভাবনা বেড়ে যায় ।
অনেকে স্বমেহন
করতে গিয়ে কুমারীত্ব
হারিয়ে ফেলে ।
ফলে তার
বিয়ে করতে সমস্যা হয়

বিয়ের পর স্বামী তার

অবস্থা দেখে তাকে সন্দেহ
করে তালাক দেয় ।
তাই হস্তমৈথুন
নারীদের
অনেক বড়
সমস্যার সৃষ্টি করে ।
আরো অনেক
সমস্যা থাকতে পারে ।
• নারী-পুরুষ উভয়ের
ক্ষেত্রেঃ
১) পুরো শরীর দুর্বল
হয়ে যায়
এবং শরীর রোগ-
বালাইয়ের
যাদুঘর
হয়ে যায় ।
২)চোখের ক্ষতি হয় । ৩)
স্মরণ শক্তি কমে যায় ।
৪) মাথা ব্যথা হয় ।
৫) আর উময়েরই
সামান্য
উত্তেজনায়
যৌনাঙ্গ থেকে তরল
পদার্থ
বের হয় । ফলে অনেক
মুসলিম ভাই-
বোনেরা সালাত
পড়তে পারেন না ।
ইত্যাদি আরো অনেক
অজানা সমস্যা হয়
হস্তমৈথুনের কারণে ।
→ বাঁচার উপায়ঃ
(ছেলে,মেয়ে উভয়ের
জন্য)
১. নামাযের পর
সুরা তওবার
শেষ দুই
আয়াত পড়ে গায়ে ফুঁক
দিবে প্রতিদিন ।
এটা পরীক্ষীত...
২. কোন কারণে লিঙ্গ
উত্তেজিত
হলে হাত দ্বারা স্পর্শ
করবেন
না ।
৩.অশ্লীলতার
ধারে কাছেও যাবেন
না এবং খারাপ
কিংবা অশ্লীল
ছবি দেখবেন না ।
৪. FB তে বা অন্য
কোথাও অশ্লীল
কিছু
দেখলে নিজেকে বিরত
রাখার সর্বোচ্চ
চেষ্টা করবেন

৫. সর্বদা আল্লার
প্রতি ভয়
রাখবেন ।
৬. যেহেতু এটি হারাম
তাই
আপনার
ইচ্ছা শক্তি দৃঢ়
রাখবেন, তাহলেই
হারাম
থেকে বাচতে আল্লাহও
সাহায্য
করবেন ।
এই
প্রশ্নটি হয়তো অনেকের
মনে ছিলো কিন্তু
লজ্জায় কারো কাছ
থেকে জানতে পারতেন
না ।
পোস্টটি থেকে আপনার
উপকার
হয়ে থাকলে অন্যদের
জানার
সুযোগ
করে দিন Share, Copy
Paste, Like,
Comments যে কোন
মাধ্যমে ।

copy pst......

---মুহিউদ্দীন কামিল

সুন্দর সকালের দিকে তাকিয়ে তোমাকে স্মরণ করছি হে রাব্বুল আলামীন।
সৃষ্টি এত সুন্দর হলে তুমি কতটা সুন্দর সেটা পঞ্চইন্দ্রীয়ের কল্পনার বাইরে।
ভালোবাসি তোমায় হে পালনকর্তা।
তোমাকে কাছে পেতে ব্যাকুল এ হৃদয় তাইতো প্রতিনিয়ত তোমার বেধে দেওয়া কাজগুলো করতে চেষ্টা করি কিন্তূ... 
শক্তি দাও প্রভূ....
---মুহিউদ্দীন কামিল

মুসনাদুশ শামীন, হাদীস নং-৯৯৪, জামেউল মাসানীদ, হাদীস নং-১২১১৯, কানযুল উম্মাল, হাদীস নং-১৭৯ মাযমাউজ যাওয়ায়েদ, হাদীস নং-১৬৮৩০

عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ” مَا مِنْ عَبْدٍ يَقُولُ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ , مِائَةَ مَرَّةٍ إِلَّا بَعَثَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَوَجْهُهُ كَالْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ

হযরত আবূ দারদা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, কোন ব্যক্তি যদি “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ” একশত বার পাঠ করে, তাহলে কিয়ামতের দিন তার চেহারা পূর্ণিমা চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল করে উঠানো হবে।

মুসনাদুশ শামীন, হাদীস নং-৯৯৪,

জামেউল মাসানীদ, হাদীস নং-১২১১৯,

কানযুল উম্মাল, হাদীস নং-১৭৯

মাযমাউজ যাওয়ায়েদ, হাদীস নং-১৬৮৩০

Monday, March 3, 2014

হাত কিভাবে বাঁধতে হবে - - - আহলে হাদীস ভাইদের ভ্রান্ত যুক্তির জবাব।

হাত কিভাবে বাঁধতে হবে - - - আহলে হাদীস ভাইদের ভ্রান্ত যুক্তির জবাব।

February 27, 2014 at 8:28pm
        হাত কোথায় বাঁধতে হবে তা নিয়ে এখন আমি আলোচনা করছি না। এখন আলোচনার বিষয় হলো হাত কিভাবে বাধতে হবে। অর্থাৎ ডান হাতের পাঞ্জা দ্বারা বাম হাতের কব্জি ধরতে হবে নাকি বাম হাতের পুরা জিরার উপর পুরা ডান হাত রাখতে হবে। আশা করি কোন বিবেক বুদ্ধি সম্পন্ন ব্যাক্তি আলোচনার মোড়কে  অন্যদিকে নেওয়ার চেষ্টা করবেন না। সামনে কোন এক অবসরে ইনশাআল্লাহ নাভীর নিচে হাত বাঁধার ব্যাপারেমুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবার এর হাদীসটি এবং বুকের উপর হাত বাধার ব্যাপারে মুয়াম্মাল বিন ইসমাইলের রেওয়াতের ব্যাপারে ব্যাপক আলোচনা হবে।

        আহলে হাদীস ভাইদের পক্ষে থেকে এ ব্যাপারে যে ধরণের কথা শুনা যায়  – “বাম যিরার উপর ডান হাত রাখলে তো এমনিতেই হাত বুকের উপর চলে আসে।”  তাদের এই বিভ্রান্তিকর  ভিত্তিহীন কথার ব্যাপারেই এখন আলোচনা করতে চাচ্ছি।

       আমাদের আহলে হাদীস ভাইদের একটা বৈশিষ্ঠ্য হল নিজেরা হাদীস মানার নামে মাঝে মাঝেই হাদীসের মনগড়া শাব্দিক অর্থের ধুয়াশা তৌরি করে। আর এর মাধ্যমেই নাকি তারা আহলে হাদীস!!! আজব !!!  এভাবে বেশ কিছু বেদায়াত তারা তৌরি করেছে যার সাথে হাদীসের কোন সম্পর্ক নেই। এর মধ্যে একটি হল “সালাতে বাম হাতের পুরা যিরার উপর ডান হাতের পুরা যিরা স্থাপন করা।” অবাক লাগে যখন দেখি এ ধরণের সাজ আমালের জন্য তারা আবার দলিল দেয় বুখারী থেকে।

        বর্তমানের বিখ্যাত সালাফী আলেম শায়খ বকর বিন আবদুল্লাহ আবু যায়েদ তার ‘লা জাদীদা ফী আহকামিস সালাহ’ কিতাবে এ ব্যাপারে কিছু কথা বলেছেন। এগুলো উল্লেখ করেই আমি মূল আলোচনায় যাবো ইনশাআল্লাহ।
       “‘কিন্তু সম্প্রতি যে দলটির উদ্ভব ঘটেছে,তাদের মধ্যে দেখতে পাচ্ছি,মুসলমানদের প্রতিদিনের ইবাদত-বন্দেগীর ওয়াজিব-মুস্তাহাব বিষয়ে, যে ইবাদত-বন্দেগী ইসলামের মহান নিদর্শন ও প্রতীকও বটে,এমন সব ধারণার বিস্তার ঘটছে যেগুলোর সাথে কোনো যুগে আলিম সমাজের কোনো পরিচিতি ছিল না। অতি নমনীয় ভাষায় বললে, এসব ধারণার কোনো কোনোটির সূত্র হচ্ছে বহুকাল আগের বর্জিত কিছু মত।
       ‘আর কোনো ধারণা পরিত্যক্ত হওয়ার জন্য তোএ-ই যথেষ্ট যে, তা সকল আলিমের মতামত থেকে বিচ্ছিন্ন।
       ‘কোনো কোনো ধারণার অর্থ দাঁড়ায়,ইসলামের প্রথম যুগ থেকে আজ পর্যন্ত গোটা মুসলিম উম্মাহ ছিল সুন্নাহ বর্জনকারীও সুন্নাহ থেকে বিচ্যুত।অন্য ভাষায়, তারা ছিল সম্মিলিত ভাবে পাপীও অপরাধী।”
‘তোএই সকল ভ্রান্তির কারণকী?
      ‘অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা হচ্ছে সুন্নাহ বোঝার ক্ষেত্রে অতিশয়তা, আর কখনো (আরবী) ভাষার বাকরীতি ও হাদীস-ফিকহের মূলনীতি সম্পর্কে উদাসীনতা।
       ‘এই সকল বিভ্রান্তি হচ্ছে দলীলের বিষয়ে মূলনীতি বর্জনের এবং নামাযের স্বাভাবিক অবস্থা ও ফিকহ-খিলাফিয়াতের কিতাব থেকে বিমুখতার কুফল। অথচ ঐ সকল কিতাবে আহকাম ও বিধানের তত্ত্ব, কারণ ও বিশেষজ্ঞদের মতভিন্নতার আলোচনা থাকে। (’-লা জাদীদা ফী আহকামিস সালাহ পৃ. ৩-৪)

হাদীসের ভূল অর্থ নিয়ে আহলে হাদীস হয় কিভাবে?

        আহলে হাদীস ভায়েরা বাম হাতের যিরার উপর ডান হাতের যিরা রাখাকে সুন্নাহ মনে করেন এবং ডান হাতের পাতা বাম হাতের পাতা,কব্জি ও যিরার উপর না রেখে ডান হাতের যিরা বাম হাতের যিরার উপর রাখেন।হাত বাঁধার ক্ষেত্রে এটা একটা বিভ্রান্তিও বিচ্ছিন্নতা। কোনো সহীহ হাদীসে যিরার উপর যিরা রাখার কথা নেই, সাহাবা-তাবেয়ীনের যুগেও এর কোনো অস্তিত্ব ছিল না এবং কোনো মুজতাহিদ ইমাম এই নিয়মের কথা বলেননি।
       তারা তাদের এ বিভ্রান্তিকর আমলের দলিল হিসেবে বুখারী শরিফের সাহল ইবনে সাদ রা. থেকে বর্ণিত  হাদীস এবং আবু দাউদ, মুসনাদে আহ্‌মাদ, নাসাঈ , ইবনে খুজায়মার ওয়াইল ইবনে হুজর রা বর্ণিত হাদীসের অপব্যাক্ষা করেন।

সাহল ইবনে সাদ রা. এর হাদীস

        সাহল ইবনে সাদ রা. থেকে বর্ণিত, ‘লোকদেরকে আদেশ করা হত, তারা যেন তার ডান হাত বাম যিরার উপর রাখে।’ (-মুয়াত্তা মালিক পৃ. ৫৫ ; সহীহ বুখারী ১/১০৪)
        এই হাদীসে যিরার উপর যিরা রাখার কথা নেই। বাম যিরার উপর ডান হাত রাখার কথা আছে।

        সাহল বিন সাদ রাযি এর হাদীসের ব্যাপারে বুখারী শরীফের বিখ্যাত ভাষ্যকার হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রহঃ বলেন –
         “বাহুর কোন জায়গায় রাখতেন সেটা এই হাদীসে অস্পষ্ট। আবূ দাউদ ও নাসাঈ বর্ণিত ওয়াইল রাযিঃ এর হাদীসে বলা হয়েছে- ‘অতঃপর তিনি তাঁর ডান হাত বাম হাতের তালুর পিঠ, কব্জি ও বাহুর উপর রাখলেন।’ ইবনে খুজাইমা রহঃ প্রমুখ এটিকে সহিহ বলেছেন। সালাত অধ্যায়ের শেষে দিকে হযরত আলী রাযিঃ এর অনুরূপ আছার (হাদীস) এর উল্লেখ আসছে। (ফতহুল বারী২/২৭৫)।

         হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রহঃ এ বিষয়ে মূল মর্ম বর্ণনার ক্ষেত্রে বললেন – “সালাত অধ্যায়ের শেষে দিকে হযরত আলী রাযিঃ এর অনুরূপ আছার (হাদীস) এর উল্লেখ আসছে।” (ফতহুল বারী২/২৭৫)

        তাহলে এবার আমরা আলী রাযিঃ এর আমালটি বুখারি শরিফ থেকে দেখি- “আলী রাযিঃ (সালাতে) সাধারণত তার (ডান হাতের) পাঞ্জা বাম হাতের কব্জির উপর রাখতেন।” (বুখারী ১/১৫৯,ইফা ২/৩৩০)


ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত বুখারী শরিফ ২য় খন্ড ৩৩০ পৃষ্ঠা।।।



        ইমাম আবুল ওয়ালিদ আলবাজী রাহ. (৪৯৪হি.) হযরত সাহল ইবনে সাদ রা.-এর হাদীসেরব্যাখ্যায় বলেছেন হাদীসের অর্থ হচ্ছেডান হাত কব্জির উপর রাখবে। কারণ ডান হাত বাম হাতেরপাতার উপর রাখা যাবে না। তা রাখতে হবে বাম হাতের গোড়া  কব্জির উপর। আর তার উপর ভরদেওয়া যাবে না। (আলমুনতাকা শারহুল মুয়াত্তা /১৬৪)


ওয়াইল ইবনে হুজর রা বর্ণিত হাদীসটিঃ

        ‘(আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর ডান হাতবাম হাতের পাতা, কব্জি ও যিরার উপর রাখলেন।’  (মুসনাদে আহমদ ৩১/১৬০, হাদীস : ১৮৮৭০; সুনানে আবু দাউদ ১/৪৮৩, হাদীস : ৭২৭)।

       এই বর্ণনাতেও বলা হয়নি ডান যিরা রেখেছেন।বলা হয়েছে,ডান হাত রেখেছেন।

        ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক ইবনে খুযায়মা রাহ. (৩১১ হি.) সহীহ ইবনে খুযায়মায় হাদীসের এই পাঠ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু ‘যিরার উপর যিরা’র অর্থগ্রহণ করেননি। তিনি এই হাদীসের উপর শিরোনাম দিয়েছেন-
بابوضع بطن الكف اليمنى على كف اليسرى والرسغ والساعد جميعا.
        অর্থাৎ ডান হাতের পাতা বাম হাতের পাতার পিঠ,কব্জি ওবাহুর উপর রাখা। (দেখুন : সহীহ ইবনে খুযায়মা ১/২৭২, বাব: ৯০)

        ইমাম আবুল আববাস আহমদ ইবনে  উমার আল কুরতুবী রাহ. সহীহ মুসলিমে বর্ণিত ওয়াইল ইবনে হুজর রা.-এর হাদীসের আলোচনায় বলেন,ইবনুল মাজিশূন ইমাম মালিক রাহ. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, (নামাযী) ডান হাত দ্বারা তার বাম হাতের গোড়া ও কব্জি পেঁচিয়ে ধরবে। উপরের হাদীসটি তার দলীল। (আলমুফহিম লিমা আশকালা মিনতালখীসি কিতাবিমুসলিম ২/২১)

         ইবনে কুদামা হাম্বলী রাহ.(৬২০ হি.) বলেন, (নামাযে) ডান হাত বাম হাতের কব্জি ও তৎ সংলগ্ন অংশের উপর রাখা মুস্তাহাব। কারণ হযরত ওয়াইল ইবনে হুজর রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি আল্লাহর রাসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামাযের বিবরণ দিয়েছেন এবং সে বিবরণে বলেছেন, ‘অতপর তিনি তাঁর ডান হাত রাখলেন তার বাম হাতের পাতার পিঠ,কব্জি ও বাহুর ।(আলমুগনী২/১৪১)।

        একই কথা বলেছেন আল্লামা ইবনে কুদামা মাকদেসী রাহ.(৬৮২ হি.)। (আশশারহুল কাবীর (আলমুগনীর সাথে মুদ্রিত) ১/৫৪৯)।

ফকিহ এবং মুহাদ্দিসগণ সাহল বিন সাদ রাযিঃ এর বর্ণনা এবং ওয়াইল ইবনে হুজর রাযিঃ এর বর্ণনার যে ব্যাক্ষা করেছেনঃ

         পূর্বেই শায়খ বকর বিন আবদুল্লাহ আবু যায়েদ হাফিজুল্লাহ এর কথা উল্লেখ করেছি যে - “কোনো ধারণা পরিত্যক্ত হওয়ার জন্য তোএ-ই যথেষ্ট যে, তা সকল আলিমের মতামত থেকে বিচ্ছিন্ন। ”  (লা জাদীদা ফী আহকামিস সালাহ পৃ. ৩-৪)
   
         বিখ্যাত ফকীহ ও মুহাদ্দিসগণ বলেছেন,নামাযে হাত এমনভাবে রাখা উচিত, যাতে ডান হাতের পাতা বাম হাতের পাতার কিছু অংশ,কব্জি ও বাহুর কিছু অংশের উপর থাকে। তাঁরা ওয়াইল ইবনে হুজর রা.-এর হাদীসের এই পাঠ এবং হযরত সাহল ইবনে সাদ রা.-এর হাদীসকে দলীল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

         আল্লামা ইবনে তাইমিয়া রাহ. নামাযে হাত বাঁধার নিয়ম সম্পর্কে বলেন, ‘তাকবীর সমাপ্ত হওয়ার পর দুই হাত ছেড়ে দিবে এবং ডান হাত বাম হাতের কব্জির উপর এমন ভাবে রাখবে যে, ডান হাত দ্বারা কব্জির গোড়ার হাড় পেঁচিয়ে ধরবে কিংবা ডান হাত কব্জির উপর এমন ভাবে বিছিয়ে দিবে যে, হাতের আঙ্গুলি সমূহ যিরার দিকে (ছড়ানো) থাকে। ডান হাত যদি কব্জির ওপরের দিকে (যিরার উপর) কিংবা কব্জির  নিচে বাম পাতার উপর রাখে তবে সেটাও জায়েয।’
         এরপর তিনি হযরত ওয়াইল ইবনে হুজর রা.-এর হাদীস,যাইদা ইবনে কুদামার বর্ণনা,সাহল ইবনে সাদ রা.-এর হাদীসও হুলবরা.-এর হাদীসকে দলীল হিসেবে উদ্ধৃত করেছেন। (শরহুল উমদা পৃ. ৬৫-৬৬)
      
        আল্লামা ইবনে হাযম রাহ.(৪৫৬ হি.) নামাযে হাত বাঁধার বিষয়ে বলেছেন, ‘মুস্তাহাব এই যে, নামাযী কিয়ামের হালতে তার ডান হাত বাম হাতের পাতার গোড়ায় রাখবে।’  (আলমুহাল্লা গ্রন্থে ৩/২৯-৩০)
       এরপর তিনি সাহল ইবনে  সাদ রা.-এর হাদীস সহ আরো কয়েকটি হাদীস বর্ণনা করেছেন।       
আলোচনার শেষে বলেন,‘আবু মিজলায, ইবরাহীম নাখায়ী, সায়ীদ ইবনে জুবাইর, আমর ইবনে মায়মূন, মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন, আয়্যুব ছাখতিয়ানী ও হাম্মাদ ইবনে সালামা থেকেও আমরা বর্ণনাপেয়েছি যে, তাঁরাও (নামাযে) এভাবে করতেন (হাত বাঁধতেন)।
        আরএটি আবু হানীফা, শাফেয়ী, আহমদ ও দাউদ-এর সিদ্ধান্ত।(আলমুহাল্লা গ্রন্থে ৩/২৯-৩০)

        ইমাম নববী রাহ. (৬৭৬ হি.) শাফেয়ী মাযহাবের মনীষীদের সিদ্ধান্ত উল্লেখ করেছেন যে, ‘সুন্নাহ হচ্ছে,তাকবীরে (তাহরীমার) পর দুই হাত নামিয়ে ডান হাত বাম হাতের উপর রাখবে এবং ডান হাতের পাতা দ্বারা বাম হাতের পাতার গোড়া এবং কব্জি ও বাহুর কিছু অংশ ধরবে। কাফফাল বলেছেন, ডান হাতের আঙ্গুল আড়াআড়ি ভাবে কব্জির উপর রাখা বা বাহুর উপর ছড়িয়ে দেওয়া দুটোরই অবকাশ আছে। (শরহুল মুহাযযাব’’গ্রন্থে ৪/৩২৭ )
        এরপর বলেন, (পৃ. ৩২৯)আমাদের মনীষীগণ সাহল ইবনে সাদ রা.-এর হাদীস দ্বারা এ নিয়ম প্রমাণ করেছেন। তেমনি ওয়াইল ইবনে হুজর রা. থেকেও বর্ণিত হয়েছে যে, ‘অতপর (আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর ডানহাত রাখলেন বাম হাতের পাতার পিঠ,কব্জি ও বাহুর উপর।’

       আল্লামা শাওকানী রাহ.ও (১২৫৫ হি.) ওয়াইল ইবনে হুজর রা.-এর হাদীসের এই ব্যাখ্যাই গ্রহণ করেছেন।তিনি বলেন,‘হাদীসের অর্থ এই যে, ডান হাত বাম হাতের পাতা, কব্জি ও বাহুর উপর রাখবে।তবারানীর রেওয়ায়েতে আছে,(আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নামাযে তাঁর ডান হাত রাখলেন বাম হাতের পিঠের উপর কব্জির কাছে। (ইমাম) শাফেয়ী রাহ.-এর শাগরিদরা বলেছেন, ডান হাতের পাতা দ্বারা বাম হাতের পাতার গোড়া, কব্জি ও বাহুর কিছু অংশ পেঁচিয়ে ধরবে। হাদীসটিহাতের পাতা হাতের পাতার উপর রাখার বৈধতা প্রমাণ করে। এটিই অধিকাংশ মনীষীর গৃহীতনিয়ম। ...’ এরপর তিনি নামাযে হাত ছেড়ে রাখার প্রসঙ্গ আলোচনা করেন।-নায়লুল আওতার ২/১৮১
       এরপর হযরত সাহল ইবনে সাদ রা.থেকে বর্ণিত হাদীস সম্পর্কে বলেন, ‘যিরার কোন অংশে ডান হাত রাখা হবে তা এ হাদীসে অস্পষ্ট। তবে আহমদ ও আবু দাউদের রেওয়ায়েতে  যা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে তা পরিষ্কারভাবে পাওয়া যায়।- নায়লুল আওতার ২/১৮৯
        সুতরাং শাওকানী রাহ.-এর মতেও সাহল ইবনে সাদ রা.-এর হাদীসের অর্থ হাতের পাতা হাতেরপাতার উপর রাখা,তবে এমন ভাবে,যেন তাযিরার কিছু অংশের উপর থাকে।

        মোট কথা সাহল বিন সাদ এবং ওয়াইল বিন হুজর রাযিঃ এর হাদীসে ডান হাত অর্থাৎ ডান হাতের যিরা-এর কোনো প্রমাণ নেই;বরং এই ব্যাখ্যা করা হলে তা হবে এই দুই হাদীসের শায ও বিচ্ছিন্ন ব্যাখ্যা।কারণ হাদীসও ফিকহের নির্ভরযোগ্য কোনো ইমাম ও ভাষ্যকার এইব্যাখ্যা করেননি।

চার মাযহাবের অবস্থানঃ
এবার আমরা সংক্ষেপে দেখবো এ ব্যাপারে চার মাযহাবের অবস্থান কি

ফিকহে হানাফী 

        বিখ্যাত হানাফী ফকিহ আলেম হালবী রাহঃ মুনয়াতুল মুসল্লী এর ভাষ্যগ্রন্থে লিখেছেন-
“...উল্লেখিত হাদীগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন কল্পে সুন্নত হলো হাত রাখা ও বাঁধা দুটির উপরই আমল করা। কারণ কিছু হাদীসে চেপে ধরার কথা এসেছে, কিছু হাদীসে হাতকে হাতের উপর রাখার কথা এসেছে। আর কিছু হাদীসে বাহুর উপর হাত রাখার কথা এসেছে। এগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের পদ্ধতি হলো, ডান হাতের তালু বাদ হাতের পিঠের উপর রাখবে, বৃদ্ধাঙ্গুলি ও কনিষ্ঠা আঙ্গুলি দ্বারা কব্জি চেপে ধরবে, আর বাকি তিন আঙ্গুল বাহুর উপর বিছিয়ে দিবে তাহলে হাতের উপর হাত রাখা , বাহুর উপর হাত রাখা এবং ডান হাত চেপে ধরা,সবগুলোই হাসিল হবে। ”

ফিকহে মালেকীঃ

        আল্লামা উব্বী মালেকী রহঃ মুসলিম শরীফের ভাষ্যগ্রন্থে লিখেছেন-
“আমাদের শায়েখগণ বলেছেন, ডান হাত দ্বারা বাম হাতের কব্জি চেপে ধরবে। কেউ কেউ এ কথাও যোগ করেছেন, শাহাদাত ও মধ্যমা আঙ্গুলি যেন বাহুর উপর থাকে।” (২/২৭৮)

ফিকহে শাফেয়ী

        ইমাম নববী রাহঃ বলেন –
“সুন্নতহলো ডান হাত বাম হাতের উপর এভাবে রাখবে যে, ডান হাতের তালু দ্বারা বাম হাতের বৃদ্ধঙ্গুলির গোড়ার হাড়, কব্জির কিছু অংশ এবং বাহু চেপে ধরবে” (আররাওজাহ ২/৩৩৯)  ।
পূর্বে শাফেয়ী মাযহাব সম্পর্কে ইমাম নববী রাহঃ এর আরেকটি উক্তি উল্লেখ করা হয়েছে । (শরহুল মুহাযযাব ৪/৩২৭) ।

ফিকহে হাম্বলীঃ

        হাম্বলী মাযহাব সম্পর্কে ইবনে মানসূর আল হাম্বালী রহঃ বলেন-
“অতঃপরবাম হাতের কব্জি ডান হাত দ্বারা চেপে ধরবে। এবং নাভির নীচে রাখবে।(১/১৬৫)” ।মারদাবী রাহঃ আল ইন্সাফ গ্রন্থে (২/৪৫) ও ইবনে মুফলিহ রাহঃ আল ফুরু গ্রন্থে (১/৩৬১)একই কথা বলেছেন।

যে কারণে তাদের বিভ্রান্তি ঘটেছেঃ

        মূলত বুখারীতে  বর্ণিত সাহল বিন সা’দ রাযি হাদীসের “যিরা” শব্দটির ব্যাবহারীক পদ্ধতি না বুঝার কারণেই তাদের বিভ্রান্তি ঘটেছে। হাদীসের বর্ণনা –“লোকদেরকে আদেশ করা হত, তারা যেন তার ডানহাত বাম যিরার উপর রাখে।”(সহীহ বুখারী ১/১০৪)
        আরবীতে হাতের আঙুলের মাথা থেকেই কনুই পর্যন্ত অংশকে ‘যিরা’ বলে। হাদীসের কোথাও বলা নেই ডান হাতকে সম্পূর্ণ যিরার উপর রাখতে হবে। যিরার কোন একটি অংশের উপর রাখলেই জিরার উপর রাখা হয়ে যায়।
এখন কেউ যদি এ কথা বলে যে ‘হাদীসে যেহেতু যিরা শব্দ এসেছে সেহেতু পুরা জিরার উপরই রাখতে হবে’ তাহলে আমি বলবো কোরআন ও হাদীসের এরুপ আরো বর্ণনা আছে যেখানে শরিরের কোন একটি অংশের বর্ণনা করা হলেও উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ ঐ অংশ না। যেমন সূরা নূহ এ বর্ণিত আছে –“......তারা কানে আঙ্গুল ঢুকিয়ে দিয়েছে...”(সূরা নূহ-আয়াত ৭)
কোরআনে আছে তারা কানে আঙ্গুল ঢুকিয়ে দিয়েছে কিন্তু এখানে আঙ্গুল দ্বারা কি সম্পূর্ণ আঙ্গুল উদ্দেশ্য? অবশ্যই না। কারণ কানের ক্ষুদ্র ছিদ্রের মধ্যে আঙ্গুলের অল্প অংশই প্রবেশ করে অথচ আল্লাহ আঙ্গুলের ক্ষুদ্র অংশের কথা উল্লেখ না করে সম্পূর্ণ অংশের কথা বললেন।

        ব্যাস। আমি আর আলোচনা দীর্ঘ করতে চাচ্ছি না। আল্লাহ যাদের হক বোঝার তৌফিক দিবে শুধু তারাই হক পাবে। আল্লাহ বেদাআত থেকে আমাদের হেফাযত করুন।

রিসালাটি প্রস্তুত করার জন্য প্রথমত আমি বিজ্ঞ আলেমদের সাথে পরামর্শ করে তাদের নির্দেষনা অনুযায়ী লিখেছি। পাশাপাশি নির্দেশনা অনুযায়ী যাকারিয়া আব্দুল্লাহ সাহেবের "বুকের উপর হাত বাঁধা : বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা " নামক প্রবন্ধ এবং মাওলানা আব্দুল মরিন সাহেবের "দলিল সহ নামাযের মাসায়েল" নামক কিতাব থেকে লিখেছি। লেখার পরিমাপ ছোট রাখার জন্য  হাদীসের আরবী পাঠ, এবং ইমামগনের মন্তব্যের আরবী পাঠ উল্লেখ করিনি।  

------(মুসলিম)

وعن سعد بن أبي وقاص رضي الله عنه قال: كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم ستة نفر، فقال المشركون للنبي صلى الله عليه وسلم: اطرد هؤلاء لايجترئون علينا، وكنت أنا وابن مسعود ورجلان لست أسميهما، فوقع في نفس رسول الله صلى الله عليه وسلم ما شاء الله أن يقع، فحدث نفسه، فأنزل الله تعالى: {ولا تطرد الذين يدعون ربهم بالغداة والعشي يريدون وجهه} ((الأنعام: 52: رواه مسلم)).

ইয়াতিম, কন্যা শিশু এবং দুর্বল, নিঃস্ব ও সর্বশান্ত লোকদের সাথে সদ্বয় ব্যবহার আদর-স্নেহ, দয়া-অনুগ্রহ এবং বিনয়-নম্রতা প্রদর্শন অধ্যায় ::

হযরত সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস বর্ণনা করেনঃ একদা আমরা ছয় ব্যক্তি রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। তখন মুশরিকরা রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললোঃ এই লোকগুলোকে আপনার নিকট থেকে তাড়িয়ে দিন। তাহলে তারা আমাদের ওপর মাতব্বরী করতে পারবে না। আমরা ছিলামঃ (ছয় ব্যক্তি) আমি (সা’দ), ইবনে মাসউদ, হুযাইল গোত্রের এক ব্যক্তি বিলাল এবং অন্য দু’ব্যক্তি, যাদের নাম আমার স্মরণ নেই। আল্লাহর ইচ্ছায় রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্তরে কিছু কথার উদয় হলো। সে কারণে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলেন। ইতোমধ্যে আল্লাহর তরফ থেকে ওহী নাযিল হলোঃ ‘যারা আপন প্রভুকে দিন-রাত ডাকতে থাকে এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে ব্যস্ত থাকে, তাদেরকে তোমার নিকট থেকে দূরে সরিয়ে দিও না। তাদের হিসাবের কোন জিনিসের দায়িত্ব তোমার ওপর বর্তায় না এবং তোমার হিসাবেরও কোন জিনিসের বোঝা তাদের উপর ন্যাস্ত নয়। এতৎসত্ত্বেও তুমি যদি তাদেরকে দূরে সরিয়ে দাও তবে তুমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
(সূরা আন’আমঃ ৫২)

------(মুসলিম)

Saturday, February 22, 2014


• পৃথিবীর একমাত্র প্রাণী ডলফিন
যে এক চোখ খোলা রেখে ঘুমায়।
• এর চেয়েও অদ্ভুত প্রাণী হল
পিঁপড়া যে কখনও ঘুমায়ই না।
• জলহস্তি দম বন্ধ করে ৩০ মিনিট একটানা পানির
নিচে থাকতে পারে।
• জিরাফ এমন একটা প্রাণী যার
একটি শক্ত
লাথিতে নিমেষেই একটি সিংহ
মারা যেতে পারে।
• পৃথিবীর একমাত্র প্রাণী গরু
যেটি সিড়ি দিয়ে উঠতে পারে কিন্তু
নামতে পারে না।
• তুলনামূলক পৃথিবীর
সবচেয়ে শক্তিশালী প্রাণী হল
পিঁপড়া যে নিজের ওজনের ০৯ গুণ ওজন বহন করতে পারে।
• পৃথিবীর একমাত্র
প্রাণী ফড়িং যার কান
থাকে হাঁটুতে|...

Sunday, February 2, 2014

হুজাইফা রা হতে বর্ণিত, ‪#‎নবী_‬[সাঃ] বলেনঃযে ব্যক্তি ‪#‎কিবলার‬ দিকে থুথু নিক্ষেপ করবে, কিয়ামতের দিনউক্ত থুথু তার উভয় চোঁখের মাঝে পেশ করা হবে। ইবনে খুযাইমা হাঃ নং ১৩১৪/ সিলসিলা হাঃ নং ২২২/ আবু দাউদ হাঃ নং ৩৮২৪।

হুজাইফা রা হতে বর্ণিত, ‪#‎নবী_‬[সাঃ] বলেনঃযে ব্যক্তি ‪#‎কিবলার‬ দিকে থুথু নিক্ষেপ করবে, কিয়ামতের দিনউক্ত থুথু তার উভয় চোঁখের মাঝে পেশ করা হবে। ইবনে খুযাইমা হাঃ নং ১৩১৪/ সিলসিলা হাঃ নং ২২২/ আবু দাউদ হাঃ নং ৩৮২৪।

Friday, January 17, 2014

যারা বলে হানফি ফিকহে নামাজ ভুল

এটা আমাকে দিয়েছেন আমার প্রিয় দীনি এক বড় ভাই।
তার জন্য সবাই দোয়া কইরেন
রফে ইয়াদাইন তথা নামাযে হাত উত্তোলন

আহলে হাদীসরা বলে- রফয়ে ইয়াদাইন তথা নামাযে তাকবীরে তাহরীমা ছাড়াও হাত তুলতে হবে। এক্ষেত্রে তাদের পরিপূর্ণ আমল কি?

চার রাকাত নামাযে তারা ১০ স্থানে রফয়ে ইয়াদাইন করে থাকে, যথা প্রথম ও তৃতীয় রাকাতের শুরুতে এবং প্রতি রাকাতের রুকুতে গমণের সময় এবং উঠার সময়। এই হল মোট ১০ স্থান। এই ১০ স্থানে তারা রফয়ে ইয়াদাইন করে থাকে। আর ১৮ স্থানে রফয়ে ইয়াদাইন করে না। যথাদ্বিতীয় রাকাত ও চতুর্থ রাকাতের শুরুতে এবং প্রতি রাকাতের সেজদাতে গমণ ও উঠার সময়। তাহলে প্রতি রাকাতে দুটি করে সেজদা হলে চার রাকাত নামাযে হচ্ছে ১৬টি সেজদা, আর দ্বিতীয় ও চতুর্থ রাকাতের শুরু নিয়ে হল ১৮টি স্থান। যে ১৮ স্থানে আহলে হাদীস দাবিদার ভাইয়েরা রফয়ে ইয়াদাইন করে না।

সেই সাথে তাদের দাবি হল এটি রাসূল সাঃ এর সর্বশেষ আমল।

আর যারা রফয়ে ইয়াদাইন করে না, তাদের নামায হয় না।

তাহলে রফয়ে ইয়াদাইনের ক্ষেত্রে আহলে হাদীসদের পরিপূর্ণ আমল ও দাবি কি?

১- ১৮ স্থানের রফয়ে ইয়াদাইনের নিষেধাজ্ঞা।

২- ১০ স্থানে রফয়ে ইয়াদাইন করতে হবে।

৩- সর্বদা করতে হবে এ শব্দ।

৪- যারা এভাবে রফয়ে ইয়াদাইন করবে না, তাদের নামায হবে না।

এ চারটি পয়েন্টসহ দলীল উপস্থাপন করতে হবে। শুধু আংশিক দলীল গ্রহণযোগ্য হবে না। যদি আংশিক দলীল পেশ করে পরিপূর্ণ আমল করে, তাহলে তারা ধোঁকাবাজ প্রমানিত হয়ে যাবে।

এবার দেখুন

মাসালায়ে রফ'উ ইয়াদাইনঃ চূড়ান্ত পর্যালোচনা (১ম অংশ)মাসালায়ে রফউল ইয়াদাইনঃ চূড়ান্ত পর্যালোচনা

সুলাইমান আল উমাইর

বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম

আসসালামু আলাইকুম। রফউল ইয়াদাইন সম্পরকে হানাফি মত বা ব্যাখ্যা নিয়ে অনেকেই বর্তমানে এরূপ বলে থাকে যে, হানাফিদের মত বা ব্যাখ্যা সহিহ হাদিস বিরোধী, সাহাবি এবং তাবেয়িদের আমলের পরিপন্থী। এভাবে একদল লোক সাধারন মানুষকে বিভ্রান্তির মধ্যে নিপতিত করছেন। তাদের মধ্যে বরতমান আহলে হাদিসগন অন্যতম।

আরেক দল লোক বিবাদমান দুই মতের লোকদের মধ্যে হানাফিদেরকে এসব বিষয় নিয়ে ইখতিলাফের জন্য দায়ী মনে করেন। কিন্তু এই ইখতিলাফ উপমহাদেশে সর্বপ্রথম শুরু করেন আহলে হাদিসরাই।

১৮৭৯ সালের কথা। যখন মুসলমানরা ছিল ইংরেজদের কবলে পরে নির্যাতিত।সিপাহি বিদ্রহের বেরথতার পরে সবাই যখন ভগ্নহৃদয়, তখন কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দিয়ে বসল লাহোরের মুস্লিম নাম ধারি এক আলেম। তিনি হলেন মাওলানা হোসেন আহমাদ বাটালভি। যাকে বলা হয় আহলে হাদিসদের ব্যারিস্টার। তিনি হানাফিদের টার্গেট করে উপমহাদেশের মুসলমানদের ঐক্য নস্যাৎ করতে একটি লিফলেট প্রচার করল। লিফলেটে এমন ১০ টি আমল তুলে ধরা হল এবং তা সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমান দিতে বলা হল যার উপর হানাফিরা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আমল করে আসছিল। এই দশটি আমলের মধ্যে রফউল ইয়াদাইন না করার ব্যাপারেও প্রমান চাওয়া হয়েছিল যা সহিহ ও সরিহ হতে হবে। এর উদ্দেশ্য ছিল মুসলমানদের ঐক্য যেন বিনষ্ট হয় আর এর মাধমে ইংরেজদের ডিভাইড অ্যান্ড রুল নীতির প্রতিষ্ঠা করা।যাতে হানাফিদের মাঝে আগুন জলে ওঠে আর ইংরেজরা ভালভাবে দেশ শাসন করতে পারে।মাহমুদ হাসান রহ এর ‘আদিল্লায়ে কামেলা’ নামক গ্রন্থে বাতালভি সাহেবের ১০ টি চ্যাঁলেঞ্জ এর সমুচিত জবাব প্রদান করা হয়েছে। এই বইটির সহজিকিকরন করে সাইদ আহমাদ পালন পুরি (দা। বা।) ‘তোহফায়ে আহলে হাদিস’ নামক গ্রন্থ হিসেবে প্রকাশ করেছেন যা বর্তমানে বাংলাদেশে পাওয়া যায়।

রফউল ইয়াদাইন না করার হাদিসগুলো আমলি ভাবে মুতাওয়াতির।কিন্তু হাত না উঠানোর হাদিস গুলো অর্থ গতভাবে মুতাওয়াতির।(নায়লুল ফারকাদাইন ফি রফউল ইয়াদাইন)

এর প্রমান ইসলামী বিশের দুই কেন্দ্র তথা মদিনা ও কুফাতে সবার আমল হাত না উঠানর পক্ষে দলিল।ইমাম মালিক রহ মদিনাবাসির আমল দেখে হাত না উঠানোর হাদিস গ্রহন করেছেন।(বিদায়াতুল মুজতাহিদ ১/১৪৩) । এ থেকে একটি জিনিস বিশেষ ভাবে নজরে পরে যে ইমাম মালিক রহ ইবনে উমার রা এর হাদিসের প্রতি বেশি জোর দেন,এমনকি মুআত্তা মালিকের বেশিরভাগ হাদিস ই ইবনে উমার রা এর থেকে নাফে রহ এর সুত্রে মালিক রহ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু হাত উঠানোর ব্যাপারে মালিক রহ ইবনে উমার রা এর হাদিসকে মাঝহাবে রুপ দেননি।তিনি মদিনাবাসির আমলকে এ ক্ষেত্রে প্রাধান্য দিয়েছেন।

আবার কুফার দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, কুফাই এমন শহর যে শহরে কেউ রফউল ইয়াদাইন করতেন না।মাওলানা আব্দুল হাই লাখনভি মুয়াত্তা মুহাম্মদ এর টিকায় ইমাম মুহাম্মদ ইবনে নাসর মারয়াযি শাফি রহ এর উধ্রিতি উল্লেখ করেনঃ“আমরা কোন পুরো শহরবাসী সম্পর্কে এরকম জানি না, যারা সবাই রুকুতে যাওয়ার ও ওঠার সময় রফউল ইয়াদাইন ছেড়ে দিতেন,শুধু কুফাবাসি এরূপ করতেন”।(আত্তালিকুল মুমাজ্জাদ পৃষ্ঠা ৯১)

অর্থাৎ কুফা ছাড়া অন্য সকল শহরে রফুল ইয়াদাইন পক্ষে বিপক্ষে লোক ছিল কিন্তু শুধু কুফার অধিবাসীরাই এমন ছিলেন যেখানে ফকিহ মুহাদ্দিস থেকে শুরু করে জনসাধারন পরযন্ত কেউই রফুল ইয়াদাইন করতেন না। সাদ ইবনে আবি অয়াক্কাস রা,আব্দুল্ললাহ ইবনে মাসুদ রা,আবু মুসা আসআরি রা থেকে শুরু করে কমপক্ষে ৫০০ সাহাবির বাস ছিল এই কুফা নগরিতে যা সর্বজনস্বীকৃত। আল্লামা আজালি রহঃ এর মতে ১৫০০ সাহাবির কথা উল্লেখ করেছেন এর মধ্যে আবার ৭০ জন বদরি সাহাবি এবং ৩০০ জন বায়াতে রেযঅয়ানের ছিলেন।এরা সবাই শুধু তাকবিরে তাহরিমার সময় হাত উঠাতেন, অন্য কথাও নয়।

রাসুল সাঃ এর ওফাতের পর ইলমের তিনটি কেন্দ্র ছিলঃ ১। মদিনা২।মক্কা৩।কুফামক্কা মুকাররামার প্রধান শিক্ষক ছিলেন হযরত ইবনে আব্বাস রা, মদিনায় হযরত ইবনে উমার রা এবং হযরত জায়েদ ইবনে সাবিত রা, এবং কুফায় হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা। (আলা’মুল মুয়াক্কিঈন)

তাই আল্লমা আনোয়ার শাহ কাশ্মিরি বলেন, ‘এ কথা অনস্বীকার্য যে,যে আমল যে পরিমান অধিক হয় তার রেওয়াআতও সে পরিমানে হ্রাস পায়। কেননা অবিছিন্ন আমল নিজেই একটি বড় শক্তিশালী দলিল। এবং এক্ষেত্রে রেওয়াআতেরও বেশি প্রয়োজন পরে না’।হানাফিগণ হাত তোলা প্রমানিত এ কথা অস্বীকার করেন না। কিন্তু যারা বলেন হাত না তোলা হাদিস দ্বারা প্রমানিত নয়, প্রমানাদির আলোকে হানাফিগণ অবশ্যই তাদের মত খণ্ডন করতে পারেন।

হাত না ওঠানোর রেওয়াআত সমুহের মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ রেওয়াআত হচ্ছে আলকামা রহঃ এর সুত্রে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ রা এর হাদিসটি। হাদিসটি নিন্মরুপঃ

১। “হযরত আলকামা রহঃ বলেন, হযরত ইবনে মাসুদ রা বলেছেন আমি তোমাদেরকে রাসুল সা এর নামাজ পরে দেখাব কি? একথা বলে তিনি নামাজ পরলেন এবং তাকবিরে তাহরিমা বেতিত কোথাও রফুল ইয়াদাইন করেননি।{সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৭৪৮, সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং-২৫৭, সুনানে দারেমী, হাদীস নং-১৩০৪, সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং-৬৪৫,১০২৯(ইফাবা), সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-২৩৬৩,মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৩৬৮১}

ইমাম তিরমিযি রহঃ বলেছেন হাদিসটি হাসান।হাফিয ইবনে হাযার রহঃ একে সহিহ বলেছেন।দারে কুতনি,ইবনে কাত্তান রহঃ হাদিস্তিকে সহিহ বলেছেন। (দারে কুতনি)

আর গায়রে মুকাল্লেদ্দের ইমাম ইবনে হাযম রহঃ এই হাদিসকে সহিহ বলেছেন।(আলমুহাল্লা খণ্ড ৪ পৃষ্ঠা ৮৮,আলতালখিসুল হাবির ১/৮৩)

এ হাদিসের সকল রাবি মুসলিমের মানসম্মত।[আল জাওহারুন নাকি ১/১৩৭]

*আবার অনেকে বলেন,ইমাম তিরমিযি রহঃ আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহঃ এর উক্তি উল্লেখ করেছেন যে, হাত না তোলার ব্যাপারে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ রা যে বলেছেন,’রাসুল সা নামাযে কেবল একবার রফুল ইয়াদাইন করেছেন তারপর আর করেননি’ এই হাদিসটি প্রতিস্তিত নয় কিন্তুহাত তোলার ব্যাপারে হাদিসটি সুপ্রমানিত ও প্রতিস্থিত।

এর জবাব হল এই উক্তিটি রফুউ ইয়াদাইন করা শিরোনামে তিরমিযি রহঃ উল্লেখ করেছেন। আর উক্তিতে যে হাদিসের কথা বলা হয়েছে তা হল অন্য একটি হাদিস।উক্তিতির দিকে লক্ষ্য করুন।যা মাসুদ রা সরাসরি রাসুল সা এর আমল অর্থাৎ মারফু সুত্র থেকে বর্ণনা করছেন। এটি উপরোক্ত হাদিস এর মত নয়।তিরমিযির হাদিসে মাসুদ রা নামাজ পরে দেখিয়েছেন, মুবারক রহঃ এর উক্তিতে এই হাদিসের বর্ণনা নেই যেটিকে তিনি সুপ্রথিস্তিত নয় বলেছেন এটি হল অই হাদিস যা তাহাবি রহঃ বর্ণনা করেছেন দেখুন তাহাবি শরিফ প্রথম খণ্ড ১২৫৫ নং হাদিস এবং এই হাদিসটি সুপ্রথিস্তিত নয়। স্বয়ং আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহঃ এর সুত্রে সুনানে নাসায়িতে আল্কামা রহঃ এর হাদিসটি বরনিত হএছে। তাই মুবারক রহঃ এই হাদিসের কথা বলেননি কেননা তার সুত্রেই এই হাদিস বরনিত আছে দেখুন সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং-৬৪৫,১০২৯(ইফাবা)।(দরসে তিরমিযি প্রাগুক্ত পৃষ্ঠা ৩৯)

তাই ইমাম তিরমিযি রহঃ আল্কামা সুত্রে প্রাপ্ত হাদিসটি পরবর্তীতে আলাদা শিরোনামে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, ‘হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. এর (রাফয়ে ইয়াদাইন না করা সংক্রান্ত) হাদীস ‘হাসান’ পর্যায়ে উত্তীর্ণ এবং অনেক আহলে ইলম সাহাবা-তাবেয়ীন এই মত পোষন করতেন। ইমাম সুফিয়ান ছাওরী রহ. ও কুফাবাসী ফকীহগণ এই ফতোয়া দিয়েছেন’।

*এই হাদিস সম্বন্ধে অনেকে বলেন এই হাদিসের ভিত্তি আসিম ইবনে কুলাইব এর উপর।আর এটা তার একক বিবরন।

এর জবাব হল আসিম ইবনে কুলাইব মুসলিম শরিফের একজন নির্ভরযোগ্য রাবি।[জাইলায়ি ১/২০৭] তাই তার একক বর্ণনা ক্ষতিকর নয়।মুসলিম শরিফের ৫৩২৯ নং হাদিসের রাবি হলেন আসিম ইবনে কুলায়েব দেখুন নিচে:

আবু হাতিম বলেন,আসিম ইবনে কুলাইব একজন সালেহ ও সৎ বেক্তি।[তাহযিবুত তাহযিব ৫/৫৫,৫৬]ইবনে হিব্বান তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন, এবং ইবনে মইন ও ইমাম নাসায়ি বলেন, তিনি একজন নির্ভরযোগ্য রাবি।[তাহযিবুত তাহযিব ৫/৫৫,৫৬]

আবু দাউদ রহ বলেন, আসিম ইবনে কুলায়েব ছিলেন কুফাবাসিদের মধ্যে উত্তম বেক্তি।[তাহযিবুত তাহযিব ৫/৫৫,৫৬]

এছাড়া আবু হানিফা রহঃ হাম্মাদ ইবনে সুলাইমান থেকে ,তিনি ইব্রাহিম নখয়ি থেকে,তিনি ইব্রাহিম রহঃ আসওয়াদ থেকে উক্ত হাদিসটি বরনিত হয়েছে, দেখুন মুস্নাদে ইমাম আযম আবু হানিফা রহঃ হাদিস নং ৯৭।

*আরেকটি অভিযোগ অনেকে করেন যে, আসঅয়াদ রহঃ এর সাথে আল্কামা রহঃ এর সাক্ষাত প্রমানিত নয়।

এর জবাব হল আব্দুর রহমান ইবনে আসঅয়াদ রহঃ ইব্রাহিম নখই রহঃ এর সমকালীন।আর ইব্রাহিম রহঃ এর শ্রবণ আল্কামা থেকে প্রমানিত।ইমাম মুসলিম এর মতে, বিশুদ্ধতার জন্য সমকালিনতাই যথেষ্ট। তাই এই হাদিসটি মুস্লিমের শর্ত অনুযায়ী সহিহ। তাছাড়া ইমাম আবু হানিফা আসঅয়াদের পরিবর্তে ইব্রাহিম নখয়ি রহঃ থেকে বর্ণনা করেছেন যা উক্ত হাদিসকে সমরথন করে।(দরসে তিরমিযি ২/৪১)

*অনেকে এরকম বলেন যে মাসুদ রা যেরকম রুকুতে তাতবিক রহিত হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে জানতে পারেননি তেমনি হাত উত্তলনের বিষয়েও অজ্ঞ ছিলেন।

এর উত্তরে বলা হবে, তিনি বছরের পর বছর রাসুল সা এর পেছনে নামাজ আদায় করেছেন,অথচ ইবনে উমার রা তখন শিশুদের কাতারে দাঁড়াতেন।তাই এরূপ প্রমানহিন কথা বলা এক প্রকার ধৃষ্টতা ছাড়া আর কিছুই নয়।

আল্লামা আহমাদ মহাম্মদ শাকের রহঃ এই হাদিসের অভিযগ খণ্ডন করতে গিয়ে বলেনঃএই হাদিসের সনদ সহিহ। ইবনে হাযমসহ অনেক হাফেযে হাদিস একে সহিহ বলেছেন। অন্নরা এতে যেসব ইল্লত বা ত্রুটি সাব্যস্ত করেছেন সেগুল আদৌ কোন ইল্লতি নয়।(শরহু জামি তিরমিযি ২/৪১)

আওযাই রহঃ ও আবু হানিফা রহঃ এর বাহাসে ইমাম আবু হানিফা রহঃ তার উক্ত হাদিসের রেওয়াআতকে প্রাধান্য দিয়েছেন রাবিদের ফিকহের ভিত্তিতে। কেননা ফিকহবিদরাই হাদিসের সঠিক মর্ম সম্পর্কে অবগত। ইমাম তিরমিযি রহ বলেন,হাদিসের আসল অর্থের যথার্থ মর্ম ইসলামী আইনবিদরাই সর্বাধিক জানেন।–(তিরমিযিঃ১/১১৮) আর আওযাই রহঃ ইবনে উমার রা এর হাদিসকে যেটি সালিম তার পিতা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা থেকে বর্ণনা করেছেন সনদের স্রেস্থত্তের ভিত্তিতে প্রাধান্য দিয়েছেন।

তাই ইবনে মাসুদ রা হাদিসের সব রাবি ফকিহ। আর হাদিসে মুসালসাল বিল ফুকাহা অন্যান্য হাদিসের তুলনায় অগ্রগণ্য।অধিকাংশ ফকিহ রফুল ইয়াদাইন করতেন না।

আবু বকর ইবনে আইয়াশ রহঃ বলেনঃ আমি কোন ফকিহ কে কখনও প্রথম তাকবির বেতিত হাত তুলতে দেখিনি।(তাহাবি ১/৪৩১)

আহলে হাদিসদের অভিযোগ, হাদিসটি মালুল এবং সুফিয়ান সাওরি রহ মুদাল্ললিস।

তাদের অভিযোগ সুফিয়ান সাওরির উস্তাদ আসিম ইবনে কুলায়েব রহ এর আরেক ছাত্রইবনে ইদ্রিসের কিতাবে ثُمَّ لَا يَعُودُ এই অতিরিক্ত অংশটি নেই। আমাদের উলামাদের জবাব এই যে, ইবনে ইদ্রিস থেকে সুফিয়ান সাওরি যে বড় ফকিহ ও ইমাম তা বলাই বাহুল্য। তিনিই শুধু এই অতিরিক্ত কথাটি বর্ণনা করেননি বরং ইমাম আবু হানিফা থেকে এক ভিন্ন সুত্রে 'তারপর পুনরায় আর হাত উত্তোলন করতেন না' কথাটি রয়েছে।[দেখুন মুস্নাদে ইমাম আবু হানিফা ৯৭ নং হাদিস] এছাড়াও অতিরিক্ত বর্ণনাটি ক্ষতিকর নয় প্রকৃতপক্ষে তিনি উক্ত কথার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন মাত্র।

অতিরিক্ত কথাটা ছারাও আমাদের আমল প্রমানিত হয়।কেননা তিরমিযির বরননায় আছে 'তিনি শুধু প্রথম বারই দু হাত উত্তোলন করলেন'।[তিরমিযি হাদিস নং ২৫৭]মানে এরপর আর তা উঠান নি শুধু প্রথমবার উঠিয়েছেন এটা ত বলার অপেক্ষা রাখে না উক্তি দ্বারাই তা পরিষ্কার।এই কথাটিই নাসাইর সনদে উল্লেখ আছে সুফিয়ান সাওরির বর্ণনায়।

আরেকটি অভিযোগ তিনি(সুফিয়ান সাওরি) তাদলিস করেন যা ইবনে মইন বলছেন। [আবু হাতিম এর আজ্জরাহ অয়াততাদিল ৪/২২৫]

এটা সর্বজন স্বীকৃত কথা যে রাবি সিকাহ ও হুজ্জত তার তাদলিস গ্রহনজজ্ঞ।

সুফিয়ান সাওরির মত রাবির বেলায় ত কথাই নেই। তারা ত কথা লুকিয়েছেন, ইবনে মইন রহ সুফিয়ান সাওরি সম্বন্ধে বলেছেন,

সুফিয়ান সাওরি রহ সিকাহ।[ জরাহ তাদিলঃ আবু হাতিম ৪/২২৫]আরও বলেছেন,

সুফিয়ান রহ আমিরুল মুমিনিন ফিল হাদিস। [ জরাহ তাদিলঃ আবু হাতিম ৪/২২৫]

তাদলীস বলার দ্বারা কি ইয়াহইয়া বিন মাঈন সুফিয়ান সাওরীর বদনাম করতে চাচ্ছেন? না এটা সম্ভব নয়। কারণ যিনি তাকে বলছেন আমীরুল মুমিনীনা ফিল হাদীস, আবার বলছেন সিক্বা। তিনি আবার তাদলীস করার কথা বলে বদনাম করেন কিভাবে? আসলে তাদলীসের অনেক প্রকার আছে। এখানে দোষনীয় তাদলীস উদ্দেশ্য নয়।

আমাদের প্রশ্ন হল যখন সুফিয়ান সাওরি রহ জোরে আমিন বলার হাদিস বর্ণনা করেন তখন তো আপনারা সুফিয়ান রহ কে শুবা রহ এর চেয়েও অধিক স্মরণশক্তির অধিকারি হিসেবে গণ্য করেন অথচ শুবা রহ হাদিস শাস্ত্রে শীর্ষ নেত্রিত্তের অধিকারী, এই তারতম্য আপনারা কিসের ভিত্তিতে করেন?

২।

عَنِ الْبَرَاءِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- كَانَ إِذَا افْتَتَحَ الصَّلاَةَ رَفَعَ يَدَيْهِ إِلَى قَرِيبٍ مِنْ أُذُنَيْهِ ثُمَّ لاَ يَعُودُ ( سنن ابى داود، كتاب الصلاة، باب مَنْ لَمْ يَذْكُرِ الرَّفْعَ عِنْدَ الرُّكُوعِ، رقم الحديث-750)হযরত বারা ইবনে আযিব (রা) বলেন- রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম ) যখন নামাজ আরম্ভ করতেন তখন তার হস্তদ্বয় কর্ণদ্বয় পর্যন্ত উত্তোলন করতেন । অতঃপর আর তা করতেন না । [ সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৭৫০, মুসনাদে আবী ইয়ালা, হাদীস নং-১৬৮৯, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-২৪৫৫ ]

এই হাদিসের ব্যাপারে বলা হয় যে, হাদিসটিকে দাউদ রহঃ সহিহ নয় বলেছেন।

এর জবাব হল দাউদ রহঃ এই হাদিসটিকে তিনটি সুত্রে বর্ণনা করেছেন।প্রথম দুটি সুত্রে হাদিসটি নির্ভর করে ইয়াযিদ ইবনে আবু যিয়াদের উপর।আরেকটি সুত্রে এটি নির্ভরশীল আব্দুর রহমান ইবনে আবু লায়লার উপর।ইমাম আবু দাউদ প্রথম দুই সুত্রের হাদিস সম্বন্ধে নিরব ছিলেন শুধুমাত্র যেটি আব্দুর রহমান ইবনে আবু লায়ালা থেকে বর্ণিত সেটিকে সহিহ নয় বলেছেন কেননা তিনি দুর্বল।সুতরাং প্রথম দুই সুত্র অনুযায়ী হাদিসটি সহিহ।(দরসে তিরমিযি ২/৪২)

আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লার হাদিসটিও কমপক্ষে হাসান পর্যায়ের।[ইলাউস সুনান ২/৪২৭]

আবার মুল পাণ্ডুলিপিতে আবু দাউদ এর এই উক্তি নেই। শুধুমাত্র মুজতবায়ি নোসখায় এই মন্তব্বের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। তাই এ ব্যাপারে সন্দেহ থেকেই যায় যে এটি দাউদ রহঃ এর উক্তি কিনা।(ইযাহুল মুসলিম ২/১২৪)

৩। عن ابن عباس قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ترفع الايدى فى سبعة مواطن، افتتاح الصلاة، واستقبال البيت و الصفا والمروة والموقفين وعند الحجر، (مصنف ابن ابى شيبة، رقم الحديث-2465)

হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ বলেছেন-সাতটি জায়গায় হাত তুলতে হবে, ১-নামাযের শুরুতে। ২-কাবা শরীফের সামনে আসলে। ৩-সাফা পাহাড়ে উঠলে। ৪-মারওয়া পাহাড়ে উঠলে। ৫-আরাফায়। ৬-মুযাদালিফায়। ৭-হাজরে আসওয়াদের সামনে। {মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-২৪৬৫, আল মু’জামুল কাবীর, হাদীস নং-১২০৭২,মাযমাউয জাওয়াএদ ২/১০৩,সুনানে বায়হাকী-৫/৭২-৭৩}

ইমাম তাবরানি মারফু সূত্রে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন ইমাম নাসায়ি থেকে। ইমাম নাসায়ি থেকে প্রসিদ্ধ আছে যে, তিনি কোন অগ্রহনযোগ্য হাদিস বর্ণনা করেন না, না কোন অনিরভরযোগ্য রাবি থেকে তা বর্ণনা করেন। সুতরাং হাদিসটি গ্রহন যোগ্য।

৪। হাফিয ইবনে হাযার আস্কালানি রহঃ ‘আদ দিরায়া ফি তাখরিযি আহাদিসিল হিদায়া’ তে হযরত আব্বাদ ইবনে যুবায়ের রহঃ এর মারফু রেওয়াআত বর্ণনা করেন,

‘রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওআ সাল্লাম যখন নামাজ শুরু করতেন তখন নামাজের শুরুতে হস্তদয় উঠাতেন।অতঃপর নামাজ শেষ করা পর্যন্ত আর হস্তদয় উত্তলন করতেন না।‘

শাহ সাহেব রহঃ বলেছেন এর সমস্ত রাবি নির্ভরযোগ্য।কিন্তু যুবায়ের রহঃ তাবীঈ। হাদিসটি মুরসাল। মুরসাল হাদিস আমাদের ও জুমহুরের মতে প্রমান।

৫। قال أخبرني سالم بن عبد الله عن أبيه قال : رأيت رسول الله صلى الله عليه و سلم إذا أفتتح الصلاة رفع يديه حذو منكبيه وإذا أراد أن يركع وبعد ما يرفع رأسه من الركوع فلا يرفع ولا بين السجدتين (مسند الحميدى، أحاديث عبد الله بن عمر بن الخطاب رضي الله عنه، رقم الحديث-614)

অনুবাদ-হযরত সালেম বিন আব্দুল্লাহ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন-আমি রাসূল সাঃ কে দেখেখি, তিনি যখন নামায শুরু করতেন তখন কাঁধ বরাবর হাত উঠাতেন। আর যখন রুকু করতে চাইতেন এবং রুকু থেকে উঠতেন, তখন হাত উঠাতেন না। দুই সেজদার মাঝেও না। {মুসনাদুল হুমায়দী, হাদীস নং-৬১৪}

৬।আসওয়াদ রহঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-আমি হযরত ওমর রাঃ-কে দেখেছি, তিনি শুধু প্রথম তাকবীরের সময় রাফয়ে ইয়াদাইন করতেন, পরে করতেন না।রাবি জুবাইর ইবনে আদি রহঃ বলেনঃ এবং আমি ইব্রাহিম রহঃ এবং শাবি রহঃ কেও অনুরুপ করতে দেকেছি। ’ (তাহাবী: ১/১৬৪), ( তহাবি ১/৪৩০ হাদিস নং ১২৬৯ [ইফাবা])

তাহাবি রহঃ বলেনঃ এটা সহিহ হাদিস। যেহেতু এর ভিত্তি হাসান ইবনে আইয়াশ রহঃ এর উপর এবং তিনি নির্ভরযোগ্য প্রামাণ্য ও হুজ্জত রাবি।ইয়াহইয়া ইবনে মইন রহঃ তাকে নিরভরযজ্ঞ বলেছেন। (তাহাবী: ১/১৬৪),( তহাবি ১/৪৩০ হাদিস নং ১২৬৯ [ইফাবা])

আল্লামা যায়লায়ী রহঃ এই হাদীসকে সহীহ বলেছেন। সহীহ বুখারীর বিখ্যাত ভাষ্যকার আল্লামা ইবনে হাজর আসকালানী রহ. এই বর্ণনার সকল রাবীকে ছিকাহ (নির্ভরযোগ্য) বলেছেন। আলজাওহারুন নাকী গ্রন্থে বলা হয়েছে এই হাদীসের সনদ সহীহ মুসলিমের সনদের মতো শক্তিশালী।

৭। হযরত আলী (রা) নামাযে প্রথম তাকবীরে হাত উঠাতেন এরপর আর হাত উঠাতেন না। (সুনানে বায়হাকী : ২/৮০, তাহাবি ১/৪২৬ হাদিস নং ১২৫৯,৬০)

আল্লামা যায়লায়ী রহ. বর্ণনাটিকে সহীহ বলেছেন। সহীহ বুখারীর বিখ্যাত ভাষ্যকার আল্লামা ইবনে হাজর আসকালানী রহ. এই বর্ণনার সকল রাবীকে ছিকাহ (নির্ভরযোগ্য) বলেছেন। সহীহ বুখারীর অপর ভাষ্যকার আল্লামা আইনী রহ. বলেন, “এ সনদটি সহীহ মুসলিমের সনদের সমমানের।(নাসবুর রায়াহ : ১/৪০৬, উমদাতুল কারী :৫/২৭৪, দিরায়াহ : ১/১১৩)

এছাড়াও, ইবনে ইসহাক রহঃ বলেনঃ ‘ইবনে মাসউদ রা এবং হযরত আলী রা এর শিস্যগন কেবল তাকবিরে তাহরিমা বেতিত হাত উত্তলন করতেন না’। আবি শাইবা এর সনদ সহিহ বলেছেন।(মুসান্নাফে আবি শাইবা ১/১৩৯)

৮।আসওয়াদ রহ. বলেছেন-হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. শুধু প্রথম তাকবীরের সময় রাফয়ে ইয়াদাইন করতেন, এরপর আর করতেন না।(জামউল মাসানীদ)

৯।ইব্রাহিম রহঃ বলেনঃ আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ রা সালাতের শুরু বেতিত কোথাও হাত তুলতেন না।(তাহাবি ১/৪২৯ হাদিস নং ১২৬৮)

৯।মুজাহিদ রহ. বলেন-আমি আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.-এর পিছনে নামায পড়েছি। তিনি প্রথম তাকবীর ছাড়া অন্য সময় রাফয়ে ইয়াদাইন করতেন না।(তাহাবী : ১/১৬৩, ইবনে আবী শাইবা : ২/৪১৮ হাদীছ নং ২৪৬৭ [শায়খ আওয়ামা দা.বা.

তাহক্বীআল্লামা তুরকুমানী রহ. বলেছেন, এ বর্ণনার সনদ সহীহ(আল-জাওহারুন নাকী)এর সনদ সহিহ ।[তাহাবি ১/১০৮]

যারা আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা এর হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেন,তাদের সেই হাদিস এর পরিপন্থী আমল তিনি নিজেই করেছেন, এটা শুধু তখনই সম্ভব যখন তার কাছে রফুল ইয়াদাইন রহিত প্রমানিত হয়।ইবনে উমার রা থেকে রফুল ইয়াদাইন বিষয়ে যেসব হাদিস আছে তা অস্পষ্ট।কেননা তার থেকে বিভিন্ন রেওয়ায়াত পাওয়া যায়।

বায়হাকি রহঃ খিলাফিয়াতে মালিক রহঃ এর সুত্রে বর্ণনা করেন,ইবনে উমার রা বলেন, রাসুল সা প্রথম তাকবির বেতিত রফুল ইয়াদাইন করতেন না।(নসবুর রায়াহ ১/২১০)

এছাড়া ইমাম মালিক রহঃ আলমুদানাওয়াতুল কুবরা গ্রন্থে ইবনে উমার রা থেকে মারফু হাদিস উল্লেখ করেছেন যেখানে রফুল ইয়াদাইনের কথা নেই।

এছারা সহিহ বুখারি ১/১০২ এ চার স্থানে ইবনে উমার রা থেকে ,উভয় সিজদার মাঝখানেও(আবু দাউদ ১/১০৮ সুনানে নাসায়ি ১/১৭২০, সিজদায় যাওয়ার সময়,( নাসায়ি ১/১৬৫),প্রতিবার উচু নিচু হয়ার ক্ষেত্রে (ইবনে মাজাহ) রফুল ইয়াদাইন এর বিবরন পাওয়া যায়।ইমামগন জথা শাফি রহঃ তিন স্থানে গ্রহন করেছেন, অর্থাৎ তিনি রহিতের দিকেই গেছেন, কেননা সিজদা সিজদায় যাওয়ার সময়, ও সিজদা থেকে ওঠার সময় রফুল ইয়াদাইন তিনি রহিত মনে করেন।

গভির ভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যায় আস্তে আস্তে নামাজ প্রশান্তির ও স্থিরতার দিকেই গেছে। প্রথমে নামজে কথা বলা জায়েজ ছিল পরবর্তীতে রহিত,এদিক অদিক তাকান জায়েজ ছিল তাও রহিত হয়ে যায়, এভাবে প্রথম দিকে প্রচুর পরিমান রফুল ইয়াদাইন জায়েজ ছিল তারপর তা হ্রাস করা হয় এবং পাচ স্থানে তা বিধিবদ্ধ হয়ে যায়, তারপর চার, তারপর শুধু তাকবিরের সময় তা অবশিষ্ট থেকে যায়। এর উদ্দেশ্য নামাযে স্থিরতা ও ধিরতা আনয়ন। কেননা কুরআন বলছেঃ ‘আল্লাহর ওয়াস্তে ধিরস্থিরভাবে নামাযে দাড়াও’

১০।ইবরাহীম নাখায়ী রহঃ বলেন-নামাযের শুরু রাফয়ে ইয়াদাইন করার পর অন্য কোথায় রাফয়ে ইয়াদাইন করো না(জামিউস মাসানীদ : ১/৩৫৩)

১১।মুগিরা রহঃ বলেনঃআমি একবার ইব্রাহিম রহঃ কে অয়ায়িল রা এর হাদিস সম্পর্কে বললাম তিনি নবি করিম সা কে দেখেছেন তিনি সালাতের শুরুতে এবং রুকুর সময় এবং রুকু থেকে মাথা উথাবার সময় হাত তুলতেন। ইব্রাহিম রহঃ বল্লেন,অয়ায়িল রা তাকে একবার এরূপ করতে দেখে থাকেন তাহলে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ রা তাকে পঞ্চাশ বার এরূপ না করতে দেখেছেন।(তাহাবি ১/৪২৫ ইফাবা) এখানে অয়ায়িল ইবনে হুযর রা এর হাদিসের উত্তর দেওয়া হয়েছে।

আরেকটি ব্যাপারে অনেকে বলেন,তাহলে বুখারি রহঃ কি ভুল বলল। তিনি তো রফুল ইয়াদাইন নিয়ে একটি বইই লিখল।এর উত্তরে বলা হবে,তিনি মুহাদ্দিস ছিলেন,মুফতি বা ফকিহ নন।ইমাম আবু হাফস কাবির রহঃ তাকে ইজতিহাদ করতে নিষেধ করেছিলেন,কিন্তু তিনি ফতোয়া দিলেন, যে শিশুর দুধপান কালিন সময়ে সে যদি কোন বকরির দুধ পান করে তাহলে দুধ সম্পর্ক স্থাপন হয়ে যাবে। এতে করে বুখারার আলেমরা তার উপর অসন্তুষ্ট হন।এ ব্যাপারে দেখুন ফাতহুল কাদিরঃ ৩/৩২০ –কিতাবুর রিযা তারিখুল খামিস ২/৩৮২

আল্লামা ইবনে হাযার মক্কি শাফী রহ আল খাইরাতুন হিসানে ৭০ পৃষ্ঠায় লিখেনঃ ইমাম বুখারি রহ আমিরুল মুমিনিন ফিল হাদিস ছিলেন , কিন্তু ফিকহের ব্যাপারে তিনি অবশ্যই দুর্বল ছিলেন। বস্তুত প্রতিটি শাস্ত্রের জন্যই আলাদা আলাদা মনিষী ছিলেন।তাই তিনি ফিকহের ক্ষেত্রে অনুসরনযোগ্য নন।

এছারাও তিনি শাফি মাজহাবের ছিলেন।[দ্রষ্টব্য-তাবাক্বাতে শাফেয়ীয়্যাহ-৩/২, আল হিত্তাহ-১২১,আল ইনসাফ=৬৭,,আবজাদুল উলুম—৮১০ }শাফি মাঝহাবে যেহেতু রফুল ইয়াদাইন রয়েছে সেহেতু তিনি এর পক্ষে বাহাস করতেই পারেন।

রফউল ইয়াদাইন নিয়ে সাহাবিদের যুগ থেকেই মতপার্থক্য দেখা যায়। কিন্তু এই ইখতিলাফ ছিল ইখতিলাফে মুবাহ। অর্থাৎ রফউল ইয়াদাইন নিয়ে ইখতিলাফ জায়েজ নাজায়েজ নিয়ে নয় বরং উত্তম অনুত্তম নিয়ে।

ইবনুল কাইয়্যিম রাহ. জোরে আমিন বলার প্রসঙ্গে বলেন, ‘এটা ইখতিলাফে মুবাহর অন্তর্ভুক্ত, যেখানে কোনো পক্ষেরই নিন্দা করা যায় না। যে কাজটি করছে তারও না, যে করছে না তারও না। এটা নামাযে রাফয়ে ইয়াদাইন করা ও না-করার মতোই বিষয়।’وهذا من الاختلاف المباح الذي لا يعنف فيه من فعله ولا من تركه وهذا كرفع اليدين في الصلاة وتركه(যাদুল মাআদ ১/৭০, মিসর ১৩৬৯ হি., কুনূত প্রসঙ্গ)

বক্তব্বের শেষে তিনি বললেন যে, রফউল ইয়াদাইন যেমন ইখতিলাফে মুবাহ তেমনি আমিন জোরে বা আস্তে বলার বেপারটিও ইখতিলাফে মুবাহ। এ নিয়ে কোন পক্ষেরই নিন্দা করা যায় না।

ইমাম হুমাম রহঃ বলেনঃ তুমুল তর্ক বাহাসের পর প্রমান সিদ্ধ কথা এই যে উভয় রেওয়াআতি রাসুল সা থেকে প্রমানিত।সুতরাং বইপরিত্তের ক্ষেত্রে, প্রাধান্য দেওয়ার প্রয়োজন পরবে।(ফাতহুল কাদির ১/২৭০)

আনোয়ার কাস্মিরি শাহ বলেনঃ উভয়ক্ষেত্রেই নিরবিছিন্ন ভাবে আমল হয়ে আসছে সাহাবি, তাবীঈ ও তাবে তাবীঈ দের যুগ থেকেই তবে মতপারথক্ক হল কোনটি উত্তম(নাইলুল ফাকাদাইন)

সাঈদ ইবনে জুবাইর রা রফে ইয়াদাইনের রহস্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেনঃ রফে ইয়াদাইনের উদ্দেশ্য নিছক মানুশের নামাজের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা।(নাইলুল ফারকাদাইন)

সাহাবি রা এর ব্যাপারে বাড়াবাড়ি থেকে বিরত ছিলেন।

আল্লামা ইবনে আবদুল বার রহ. রাফয়ে ইয়াদাইন সম্পর্কে সাহাবায়ে কেরামের অবস্থান বর্ণনা করেছেন-

হযরত হাসান রা. সাহাবায়ে কেরামের কর্মনীতি সম্পর্কে বলেছেন, ‘তাদের মধ্যে যারা রাফয়ে ইয়াদাইন করতেন তারা রাফয়ে ইয়াদাইন পরিত্যাগকারীদের উপর আপত্তি করতেন না।এ থেকে বোঝা যায়, রাফয়ে ইয়াদাইন জরুরি কিছু নয়।(আত-তামহীদ : ৯/২২৬)

স্বয়ং রাসুল সা এর প্রিয় নাতি হাসান রা এর উক্তি থেকেই বঝা যায় রফউল ইয়াদাইন করা বা না করা নিয়ে আপত্তি করার কিছু নেই। কেননা সাহাবি রাদিয়াল্লাহু আনহুম এ ব্যাপারে ইখতিলাফে জড়াননি। কিন্তু বর্তমানে আহলে হাদিস ভাইরা ছাড়াও অনেকে এরকম রএছেন তারা এ ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করেন এটা সাহাবীদের আমলের পরিপন্থী।

এই প্রবন্ধটি রফুল ইয়াদাইন প্রমানিত নয় বলে না, কিন্তু রফুল ইয়াদাইন না করাও প্রমানিত বলে। কিন্তু যারা বলে রফুল ইয়াদাইন না করা প্রমানিত নয়, এবং যারা রফুল ইয়াদাইন না করে আসছেন হঠাৎ তাদের আমল সহিহ কিনা এই বিষয়ে সন্দিহান হয়ে পরেছেন তাদের জন্য আমি এই অধম আল্লাহ তা আলার ইচ্ছায় প্রবন্ধটি লিখলাম,ভুল ভ্রান্তি ক্ষমার চোখে দেখবেন।আসসালামু আলাইকুম।

সা’দ ইবন আবূ ওয়াক্কাস (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেনঃ ‘তুমি আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি লাভের আশায় যা-ই খরচ কর না কেন, তোমাকে তার সওয়াব অবশ্যই দেওয়া হবে। এমনকি তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে যা তুলে দাও, তারও। -(সহীহ বুখারী-৫৪)


সা ইবন আবূ ওয়াক্কাস (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেনঃতুমি আল্লাহ্ সন্তুষ্টি লাভের আশায় যা- খরচ কর না কেন, তোমাকে তার সওয়াব অবশ্যই দেওয়া হবে এমনকি তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে যা তুলে দাও, তারও
-(
সহীহ বুখারী-৫৪)

Friday, January 10, 2014

বনি ইসরাঈল 85

[] আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন-" আর তারা আপনাকে রূহ সম্পর্কে প্রশ্ন করে। আপনি বলে দিন, রূহ আমার রবের আদেশঘটিত। এ বিষয়ে তোমাদেরকে খুব সামান্যই জ্ঞান দেয়া হয়েছে।"
 _বনি ইসরাঈল 85

[] আয়াতের বাস্তবতা
হাঁ, মানুষকে সব ব্যাপারে অতি সামান্যই জ্ঞান দান করা হয়েছে। আর সব মহাজ্ঞান রয়েছে মহান আল্লাহর নিকট। বলা বাহুল্য, মানুষ তো মাত্র চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, নক্ষত্র, মঙ্গল, বৃহস্পতি ইত্যাদি ছোট ছোট মাত্র কয়েকটির খবর তারা জানে। আর এর বাইরে যে বিশাল জগত রয়েছে, তার সামান্যই মানুষ আবিষ্কার করতে পেরেছে। তারপর রয়েছে অকল্পনীয় বিশাল সাত আসমান-জমিন, আরশ, লাওহ, আরশ-কুরসী ও জান্নাত-জাহান্নাম যার বিন্দুমাত্রও মানুষ নাগাল পায়নি।

(সহীহ বুখারীঃ ৬৯৫৮)

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিত:
তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ঈমানদার শস্যক্ষেতের নরম ডগার মত। জোরে বাতাস এলেই তার পাতা ঝুঁকে পড়ে। যখন বাতাস থেমে যায়, তখন আবার স্হির হয়ে যায়। ঈমানদারদেরকে বালা-মূসিবত দ্বারা এভাবেই ঝুঁকিয়ে রাখা হয়। আর কাফেরের উদাহরণ দেবদারু গাছ, যা একেবারেই কঠিন ও সোজা হয়। যদ্দরুন আল্লাহ যখন ইচ্ছা করেন সেটিকে মুলসহ উপড়ে ফেলেন।

-(সহীহ বুখারীঃ ৬৯৫৮)

(আপনি শেয়ার করলে হয়তো আপনার বন্ধুও জানার সুযোগ পাবে)

(সহীহ বুখারীঃ ৩০৯২)

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত,

রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, সর্বপ্রথম যে দল জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের মুখমণ্ডল হবে পূর্ণিমার রাতের চাঁদের মত উজ্জ্বল। তারপর যে দল তাদের অনুগামী হবে তাদের মুখমণ্ডল হবে আকাশের সর্বাদিক দিপ্তমান উজ্জ্বল তারকার মত। তারা না করবে পেশাব আর না করবে পায়খানা। তাদের থুথু ফেলার প্রয়োজন হবে না এবং তাদের নাক হতে শ্লেম্মাও বের হবে না। তাদে র চিরুনি হবে স্বর্ণের তৈরি। তাদের ঘাম হবে মিস্‌কের ন্যায় সুগন্ধপূর্ণ। তাদের ধনুচি হবে সুগন্ধযুক্ত চন্দন কাঠের। বড় চক্ষু বিশিষ্ট হুরগণ হবেন তাদের স্ত্রী। তাদের সকলের দেহের গঠন হবে একই। তারা সবাই তাদের আদি-পিতা আদম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর আকৃতিতে হবেন। উচ্চতায় তাদের দেহের দৈর্ঘ্য হবে ষাট হাত বিশিষ্ট।

-(সহীহ বুখারীঃ ৩০৯২)

(আপনি শেয়ার করলে হয়তো আপনার বন্ধুও জানার সুযোগ পাবে)